মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

ঋতু বৈচিত্রের এই বাংলাদেশে প্রতিবছর শরত আসে। সাথে নিয়ে আসে শান্তির বার্তা, ধবধবে সাদা কাশফুল ও মেঘের ভেলা।
কাশফুল দেখলে প্রাকৃতিপ্রেমী যে কোনো মানুষের বিষন্নতা দূর হয়। কাশফুলের শুভ্রতা ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে।

চট্টগ্রাম জেলার সর্ব দক্ষিণে বাঁশখালী থানার অন্তর্গত গণ্ডামারা ইউনিয়ন। সেখানে শুক্রবার একদল তরুণকে দেখা গেলো। তাঁরা কাশফুলের সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে আছে। বর্তমান যুগে যেখানে কোটি কোটি মানুষস্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্ত, সেখানে তাদেরকে দেখা গেছে প্রকৃতি নিয়ে মুগ্ধ হয়ে যেতে।

মাইজপাড়ার বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া দেলোয়ার হোছাইন মাহিদ দৈনিক সংবাদ প্রবাহকে জানান, প্রতিবছর শরৎকাল আসলে তাদের মনে ভাসতে থাকে কাশফুলের সৌন্দর্যের কথা। তাই বন্ধুরা মিলে ছুটির দিন আসলেই পরিকল্পনা করে ছুটে যান কাশবনে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে তারা সকলেই।

মাহিদ জানান তার বন্ধুদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম, আসিফ বিন কাসেম, এনাম, ইসকান্দর, সাগর ও হেফাজসহ আরো অনেকেই তাকে তাগাদা দেয় কাশফুল দেখতে ছুটে যাওয়ার জন্য।

কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ তারুণ্য

শুধু তারা নয়, দূরদূরান্ত থেকে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসছে বাঁশখালীর গণ্ডামারায়। শীলকূপ ও গণ্ডামারা ইউনিয়নের সেতু বন্ধন হিসেবে পরিচিত গণ্ডামারা ব্রিজের বাম পাশে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে এই কাশফুলের বন।
গণ্ডামারা ব্রিজটি বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী জলকদর খালের উপরে নির্মিত।

শীলকূপ ইউনিয়নের টাইম বাজার থেকে আবুল হোসেন চৌধুরী সড়ক ধরে পশ্চিমে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুতের দিকে এগিয়ে গেলে খুব সহজেই যাওয়া যায় এই কাশবন। কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সন্ধ্যার সোনালী আলোতে মানুষ এখানে ভীড় করছে প্রতিদিন।

কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকেরা শরতের সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন এই কাশফুলকে নিয়ে অনেক সাহিত্য রচনা করেছেন। চিত্রশিল্পীরা অংকন করেছেন নানান রকমের ছবি।
ফটোগ্রাফাররা তুলে রাখছেন কাশফুলের মনোরম সৌন্দর্যের দৃশ্য।

কাশফুল নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে মাটিতে দ্রুত উপনিবেশ স্থাপন করতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও ফসলে জমি এবং চারণভূমিকে এরা গ্রাস করে গড়ে তুলতে পারে নিজেদের সাম্রাজ্য।

কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস।
চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড়, গ্রামের কোন উঁচু জায়গা কিংবা নদীর ধারে কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়।শরতের কাশফুল পালকের মতো নরম এবং ধবধবে সাদা রঙের। গাছটির চিরল পাতার দুই পাস খুবই ধারালো।

একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা

গ্রাম্য এলাকায় জ্বালানি এবং পানের বরজের ছাউনি হিসেবে কাশের ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ ও রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কাশফুলের জন্ম হতো প্রচুর। বর্তমানে আমাদের দেশে কাশবন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এর জন্য জলবায়ু কে দায়ী করছেন পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Share.
Exit mobile version