মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

চীনের পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে কার্যকর ৩০ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে এটি যোগ হলে চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়াবে প্রায় ১৩০ শতাংশে। আগামী ১ নভেম্বর বা তার আগেই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর এমন একটি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে, যা তারা বর্তমানে পরিশোধ করছে তার চেয়ে আরও ১০০ শতাংশ বেশি হবে। একই সঙ্গে ১ নভেম্বর থেকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের ওপরও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত চীনের বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিক্রিয়া। আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে এসব খনিজ অপরিহার্য, এবং এই বাজারে চীনের প্রভাব একচ্ছত্র। ট্রাম্প চীনের এই অবস্থানকে “অর্থনৈতিকভাবে জিম্মি করার কৌশল” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই উত্তেজনার জেরে চলতি মাসের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্ধারিত ট্রাম্প-সি চিন পিং বৈঠক বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘোষণার পরপরই বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, গত বছরের মতো এবারও বাণিজ্যযুদ্ধের চাপ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় ডাও জোনস সূচক ৮৭৮ পয়েন্ট বা ১.৯ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৭ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৩.৫ শতাংশ হ্রাস পায়।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। যদিও সম্প্রতি মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহে চীনকে পেছনে ফেলেছে, তবুও ইলেকট্রনিকস, পোশাক, আসবাবপত্রসহ শত শত কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা রয়ে গেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু চীনের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক নয়,  ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে এবং মার্কিন নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।

Share.
Exit mobile version