নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অভ্যন্তরীণ রাস্তা পাকা করার কাজেব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষের কয়েক দিনের মধ্যেই হাতের টানে ওপায়ের ঘষায় কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের একেবারে নাকের ডগায় এ ধরনের নিম্নমানের কাজ কীভাবে সম্পন্ন হলো এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, উপজেলা চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যদি এমন কাজ হয়, তাহলে অন্যান্য এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের কাজ করছে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা কার্পেটিংয়ের আগে এজিং যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি।কোথাও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব নির্ধারিত মানের চেয়ে কম, কোথাও আবার রোলিং না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, কোথাও দেবে যাচ্ছে রাস্তা, আবার কোথাও এজিং খুলে পড়ছে।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কাজটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পান ঠিকাদার তানজিমুল ইসলাম। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬লাখ ৪৭ হাজার ৭০১ টাকা। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার এমন বেহালদশা এলাকা জুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন অংশে রাস্তার উপরিভাগ উঠে গেছে, কোথাও কার্পেটিং ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তানজিমুল ইসলাম বলেন, কাজ করতে গিয়েঅনেক ক্ষতি হয়েছে। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু জায়গায় সমস্যা আছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ–সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, কাজ তদারকির জন্য চারজন কার্যসহকারী ছিল। কিছু ত্রুটি–বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি মান্দা উপজেলা শাখার প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ ঠিক করে নিতে বলা হয়েছে। কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন না হলে বিল প্রদান করা হবে না।
তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে উন্নয়নের নামে এ ধরনের নিম্নমানের কাজ বারবারই জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

