ফরিদপুরের সালথায় স্বঘোষিত শিক্ষক নেতা সাহেবুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিরঅভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়ন, সেই ঘটনায় জেলে থাকাকালিন সময়েরবেতন উত্তোলন, পাঠদান না করে উপজেলা সদরে ঘোরাঘুরি, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষেপ্রাইভেট পড়ানো, বিভিন্ন অজুহাতে ( বেতন সমতাকরণ ও বকেয়া প্রাপ্তি, স্লিপ ফান্ড, ওয়াশব্লক মেরামত, রুটিন মেরামত) শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘরের মালামাল বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ, নিজেকে রাজনৈতিক দলেরনেতা দাবি করা, স্বেচ্ছাচারী হয়ে তাঁর মতের বিরোধী শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলকআচরণ, হুমকি-ধামকী ও ভয় ভীতি প্রদর্শনসহ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। আরদিন দিন এই অনিয়ম ও দূর্নীতি বেড়েই চলছে। শিক্ষক নেতা সাহেবুল ইসলাম উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিকবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও নটখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, মো. শাহেবুল ইসলাম ২০০৯ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।পরিচয়ে তিনি একজন শিক্ষক, তবে তার আচরণ কর্মকাণ্ড কোন কিছুতেই তা মনে হয় না।সকাল বেলা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রাইভেট পড়ান, এরপর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। কোনদিনএকটি ক্লাস করেন অথবা কোনদিন করেন না, এরপর শিক্ষা অফিসের কথা বলে চলে আসেনউপজেলা সদরে। উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস ঘুরে চলে আসেনচায়ের দোকানে। সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে চলে তাঁর দেন দরবার। ফেসবুকে বিভিন্নসময় রাজনৈতিক নেতা ও অফিসারদের সাথে ছবি তুলে নিজেকে মহাশক্তিধর লোক হিসেবেপ্রদর্শন করেন।
শাহেবুল ইসলাম নটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সময়২০১৪ সালে ৪র্থশ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষন চেষ্টা কালে হাতেনাতে ধরা পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঐছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ শাহেবুল কে গ্রেফতার করেজেল হাজতে পাঠায়।এরপর ১৫ দিনহাজত বাস শেষে জেল থেকে বের হন। নিয়ম অনুসারে কোন কর্মচারী জেলেথাকা অবস্থায় তার বেতন পাবে না এবং তা সার্ভিস বুকে লিপিবদ্ধ থাকবে। তবে ঐ সময়আওয়ামীপ্রভাব খাটিয়ে তিনি সকল বেতন ভাতা তুলে নেন এবং সার্ভিস বুকে তা লিপিবদ্ধকরতে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা যায়।
ছাত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার ঘটনার পর শাহেবুল কে সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলিকরা হয়। তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক তাইফুন নাহারকে সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে বদলি করিয়ে আনেন। এরপর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। বিগত আওয়ামীসরকারের আমলে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সকল কমিটিতে পদধারীছিলেন।তবে তিনি বর্তমানে নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করলেওবিগত ৫ আগষ্টের আগে ছিলো ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে কয়েকজন সুবিধাবাদী শিক্ষককে নিয়েএকটি পকেট কমিটি করে সেখানে শাহেবুল নিজেকে শীর্ষ পদে রেখেছেন বলে বিভিন্ন সময়েপ্রচার করেন।
২০২৩ সালে সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ঘর নিলামের মাধ্যমেবিক্রি হয়। ঐ সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে পুরাতন ঘরের সমস্ত মালামাল বিক্রি করে দেন।বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকিশিক্ষকদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান। সরকারি বিধি নিষেধ না মেনে তিনি এবং তার স্ত্রীতাইফুন নাহার নিয়মিত বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ান। তার কাছে প্রাইভেট নাপড়লে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষ থেকে বের করে দেন। প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনিশিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং অনেক সময় কুপ্রস্তাব দেন।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহেবুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমারবিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। একটি মহল আমাকেফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সেটিওআমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালত ১৫ দিনকারাবরণের পর আমাকে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিগত দিনে যারা টাকা আত্মসাৎ করেছে, তারাইআমার বিরুদ্ধে এসব করছে। তাদের প্রশাসন কেন জানি দেখে না। আমি চাই সব দুর্নীতিজনগণের সামনে আসুক, সালথা কলঙ্কমুক্ত হোক।
এই বিষয়ে সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারকেফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ হাফিজুররহমান বলেন, যার যার দায়িত্ব সেই সেই পালন করুক, কেউ প্রতিহিংসা পরায়ণ না হোক।আমরা চেষ্টা করছি সাহেবুলসহ সবাই স্কুলে ফিরে যাক।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেমউদ্দিন বলেন, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সদরেঘোরাঘুরি এটা শুধু এই উপজেলাতে দেখলাম অন্য কোথাও চোখে পড়ে নাই। আমি অনেকশিক্ষককে নিষেধ করেছি, কিন্তু মাঝে মাঝে নিরুপায় হয়ে যাই। সাহেবুল ইসলামের সকলঅভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

