বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী নিয়োগের অগ্রগতি জানাতে জাপানের ‘ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস’ (এনবিসিসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
এনবিসিসি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওআই) স্বাক্ষর করেছে। আগামী পাঁচ বছরে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি) ও স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার্স (এসএসডব্লিউও) কর্মসূচির আওতায় এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে আগামী বছর দুই হাজার কর্মী জাপানে পাঠানো হবে। ২০২৭ সালে ছয় হাজার এবং ২০২৮ সালে ১৮ হাজার কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ, সেবা, কৃষি, গার্মেন্টস ও এভিয়েশন খাতে এসব কর্মীর বেশি চাহিদা থাকবে। বাংলাদেশে খুলনা ও গাজীপুরে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিনিধিদলের প্রধান মিকিও কেসাগায়ামা প্রশিক্ষণের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে প্রশিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভাষা শিক্ষার জন্য ভার্চুয়াল ক্লাস চালু করা যেতে পারে। জাপান থেকে শিক্ষক এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।” তিনি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কেয়ারগিভিং সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, “বাংলাদেশের মেয়েরা যত্নশীল ও পরিশ্রমী। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে তারা জাপানে চমৎকার কাজ করবে।” প্রতিনিধিরা জানান, আগামী কয়েক বছরে জাপানে চার লাখের বেশি দক্ষ নার্সের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়োগের বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকার জাপানে কর্মী নিয়োগের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও বিশেষ সেল গঠনের কাজ চলছে।

