কিংবদন্তি লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভীনকে কুষ্টিয়ায় দাফন করা হবে। তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেওয়া হবে। সেখানে বাদ মাগরিব নামাজের পর জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে শায়িত করা হবে।
ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল সাংবাদিকদের বলেন, “মাকে আমরা কুষ্টিয়ায় দাফন করব, তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী।” মেয়ে জিহান ফারিয়াও জানান, “মা মর্যাদা নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। তাঁর শেষ ইচ্ছে ছিল কুষ্টিয়ায় গিয়ে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন হওয়া।”
বরেণ্য এই শিল্পী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ রাতেই তেজগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এ বছরই তিন দফায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই সংগীতের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। তাঁর বাবা ও দাদিও গান করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় বেড়ে ওঠা ফরিদা পারভীনের সংগীতচর্চা শুরু হয় রাজশাহী বেতারে, ১৯৬৮ সালে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি পরিচিতি পান। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে তালিম নিয়ে লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন তিনি।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত নিন্দার কাঁটা গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কারে ভূষিত হন। শুধু লালনের গান নয়, তাঁর কণ্ঠে আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানও সমান জনপ্রিয় হয়।
“লালনকন্যা” খ্যাত ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

