মাদক দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বত্রই মাদক সহজলভ্য। তরুণ-যুবকরা তো আছেই, কিশোর বয়সী, এমনকি কিশোরীরাও ক্রমেই বেশি করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ। মাদকের বিরোধ থেকে খানাখনি প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরপরও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের মাদক প্রবেশ করছে। সারা দেশেই গড়ে উঠেছে মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি মাদক প্রবেশ করে মায়ানমার থেকে স্থল ও জল উভয় সীমান্ত দিয়ে। প্রায় ৯ মাস ধরে দেশ থেকে ওষুধ, খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী, কাঁচি উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হয়ে মায়ানমারে যাচ্ছে। বিনিময়ে মায়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা, আইসসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।
কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, এসব পণ্যের বিনিময় হয় সাগরের মায়ানমার অংশে। বিশেষ করে মাছ ধরার নৌযানে পণ্য নেওয়া হয় মায়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যদের কাছে। মায়ানমারে পণ্য পাচারকালে কোস্ট গার্ড গত এক মাসে কমপক্ষে চারটি চালান আটক করেছে।
গত ১১ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর থানার কাট্টলী ঘাটসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট, দুটি বোটসহ ২০ জন পাচারকারীকে আটক করে কোস্ট গার্ড। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মায়ানমার থেকে সাগরপথে নৌযানে ইয়াবার চালান এনে নাফ নদী পার করে তা টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। এরপর এসব চালান সীমান্ত থেকে ১৭টি পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেছেন, পণ্যের বিনিময়ে ইয়াবা আনার চক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। তবে ইয়াবা বহনকারীদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই কারবার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডও ঘটানো হচ্ছে।
মাদক কারবারের বা হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষ। কিশোরগঞ্জে মাদক কারবারের আধিপত্য নিতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ইমরানুল হক হিমেল (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। দজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ২০ জন। সংঘর্ষের জের ধরে অন্তত পাঁচটি বাড়ি পড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাদকের প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খবই কম দেখা যায়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয় ও ছোট-বড় প্রায় সব অপরাধের পেছনে অন্যতম প্রধান অনঘটকের কাজ করছে মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কিশোর ও তরুণ। মাদক ব্যবসার গডফাদাররা খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিতে এই এদের ব্যবহার করছে।
আমরা আশা করি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

