কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ চলছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই এ আয়োজন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ইতোমধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
রোববার (২৪ আগস্ট) উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নেন কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ও প্রবাসী রোহিঙ্গারা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন– কিভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা তৈরি করা যায়। সেশনটিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে লাকি করিম, মোহাম্মদ রফিক (খিন মৌং) ও ওমর সালমা আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। বক্তব্য রাখেন সয়েদুল্লাহ, ফুরকান মির্জা, আবদুল্লাহ, হুজ্জাউত উল্লাহসহ অনেকে।
আলোচনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষ দূত থমাস এইচ অ্যান্ড্রুজ, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুও, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রানা ফ্লাওয়ার্স এবং মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ানসহ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ উপস্থিতি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সংলাপে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এ অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুধু স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা নয়, বরং বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক মঞ্চ। আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ আয়োজিত হাই-লেভেল কনফারেন্সের আগে এ সংলাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এখান থেকে পাওয়া সুপারিশ ও কার্যকর প্রস্তাবনা আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই রূপরেখা তৈরি করবে।

