চারজন আন্তর্জাতিক নভোচারীকে নিয়ে স্পেসএক্সের ‘ক্রু ড্রাগন’ মহাকাশযান শনিবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের (ISS) সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত হয়েছে।
“ডকিং সম্পন্ন!”, স্পেসএক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় মহাকাশযানটি পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০৬২৭), দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে কক্ষপথে থাকা মহাকাশ কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।
এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন নভোচারী জেনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিনকে, জাপানের কিমিয়া ইউই এবং রাশিয়ার রোসকসমস মহাকাশচারী ওলেগ প্লাটোনভ। তারা মহাকাশ কেন্দ্রে ছয় মাস অবস্থান করে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তাদের যাত্রা শুরু হয় শুক্রবার সকালে, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণকৃত ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে।
এটি নাসার ‘কমার্শিয়াল ক্রু প্রোগ্রাম’-এর আওতায় পরিচালিত একাদশ রোটেশন মিশন, যা স্পেস শাটল যুগের পরে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে।
মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর, সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত নভোচারীরা নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, “ঠান্ডা পানীয়, গরম খাবার আর আমরা—সবই প্রস্তুত, শিগগির দেখা হবে।” উত্তরে মাইক ফিনকে জানান, “হ্যালো স্পেস স্টেশন—ক্রু ১১ এখানে, আমরা অত্যন্ত রোমাঞ্চিত।”
এই মিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণের জন্য আর্টেমিস কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অনুকরণমূলক প্রশিক্ষণ। handheld কন্ট্রোলার ও মাল্টি-ডিসপ্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে নভোচারীরা অনুশীলন করবেন ভিন্ন গ্র্যাভিটির প্রভাবে কীভাবে মহাকাশযান পরিচালনা করতে হয়।
২০০০ সাল থেকে মানুষের বসবাসযোগ্য এই মহাকাশ কেন্দ্রটি গভীর মহাকাশ গবেষণার পরীক্ষাগার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযান, ও মহাকাশে টেকসই জীবন ব্যবস্থা গঠনের সম্ভাবনাগুলোর অনেকটাই এখান থেকেই যাচাই করা হচ্ছে।
এই মিশনের একটি ব্যতিক্রমী উপাদান হলো আর্মেনীয় ডালিমের বীজ। মহাকর্ষহীন পরিবেশে উদ্ভিদের বিকাশ কেমন হয়, তা বোঝার জন্য এই বীজের একটি ব্যাচ মহাকাশে নেওয়া হয়েছে, আরেকটি রাখা হয়েছে পৃথিবীতে তুলনার জন্য।
জানা গেছে, ২০৩০ সালের পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত ‘পয়েন্ট নিমো’ অঞ্চলে এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হবে। এই অঞ্চলকে মহাকাশযানের কবরস্থান হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।

