যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।”
শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (USTR) মধ্যে তিন দিনের টানা আলোচনা শেষে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
“অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “প্রত্যাশিত হারের চেয়ে ১৭ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে শুল্ক নির্ধারণের মাধ্যমে আমাদের আলোচকরা অবিচল প্রতিশ্রুতি ও অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল। আজকের এই সাফল্য আমাদের জাতির দৃঢ়তা, বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।”
প্রেস সচিব শফিকুল আলামের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, “ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। জটিল শুল্ক, অশুল্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সফলভাবে পথ অতিক্রম করায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ
তিনি বলেন, “এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে।”
এই অর্জন কেবল তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকনির্দেশক হিসেবেও বিবেচিত হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইউনূস।

