ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে কানাডা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এ ঘোষণাকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে ‘নাটকীয় পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
বুধবার (৩০ জুলাই) কানাডার রাজধানী অটোয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
প্রধানমন্ত্রী কারনি বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের আশা ধরে রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।”
তিনি জানান, “২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।” এর ফলে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পর কানাডা তৃতীয় দেশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল।
ইসরায়েল কানাডার এ সিদ্ধান্তকে “আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির বিকৃত প্রচারণা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অটোয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, “এই স্বীকৃতি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের বর্বরতার প্রতি একপ্রকার পুরস্কার ও বৈধতা দান।”
প্রধানমন্ত্রী কারনি অবশ্য বলেন, এই স্বীকৃতি শর্তসাপেক্ষ। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতির উপর, যেখানে হামাস কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা রাখতে পারবে না এবং নতুন রাষ্ট্র সামরিকীকরণ করা যাবে না।”
কানাডার ঘোষণার পরপরই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস একে ‘ঐতিহাসিক’ সিদ্ধান্ত বলে স্বাগত জানিয়েছেন। ফ্রান্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা ফের জাগাতে তারা কানাডার সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।
ইতোমধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক পদক্ষেপ না নিলে তার দেশও সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কারনি বলেন, “কানাডা সবসময় আশা করেছিল দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত হবে। কিন্তু হামাসের সন্ত্রাসবাদ ও ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নিতে তাদের অস্বীকৃতি এই পথকে দুর্বোধ্য করে তুলেছে।”
তিনি বলেন, ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণও শান্তি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং ইসরায়েল সরকারের ব্যর্থতাও দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন কারনি।

