প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে জাতীয় ঐকমত্য গঠনে সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি এমন সমাজ গঠন করা, যেখানে সব বাংলাদেশি শান্তি, গর্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।”
অধ্যাপক ইউনূস জানান, বর্তমানে সরকার যেমন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে, তেমনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার কেবল শাস্তি নয়, এর অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেন আর কখনো দমন-পীড়নের অস্ত্র না হয়।”
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) একটি স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময়কালে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার।
প্রতিবেদনটিতে ঘটনাগুলোকে পদ্ধতিগত ও সংগঠিত মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জাতিসংঘ শুধু নথিভুক্ত করেনি, বরং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট সুপারিশ দিয়েছে। আমরা তা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছি।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ফৌজদারি কার্যবিধির সংস্কার, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে ঢাকায় একটি সহায়ক মিশন স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই মিশন সরকারের সংস্কার প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেবে এবং মানবাধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “গত বছরের জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে—একটি বাংলাদেশ গঠনের, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আশাবাদের ভিত্তিতে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের সংকটকালে পাশে থাকার জন্য।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ সাহসিকতা দিয়ে নিজের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে, এবং এই সাহসিকতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা চিরকাল থাকবে।”

