বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্টচিকিৎসক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সম্মানে সিডনির লাকেম্বারগ্রামীণ রেস্তোরাঁয় এক মনোরম সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।
গত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা ও আয়োজনে ছিলেন প্রকৌশলী আব্দুলমতিন ও অমিয়া মতিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শেখ শামীমুল হক, অজয় দাশগুপ্ত এবং ড. কাইয়ুমপারভেজ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরতবাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সংগীতশিল্পী, লেখক, নাট্যজন, সাংবাদিক, সংগঠক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সাখাওয়াত নয়নের প্রাণবন্ত ওসাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অগ্রণী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক দলেরপরিবেশনায় দর্শক–শ্রোতারা উপভোগ করেন এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আয়োজন।জনপ্রিয় শিল্পী অমিয়া মতিনের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীতএবং আধুনিক বাংলা গানের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশনা।
একক সংগীত পরিবেশনায় অমিয়া মতিন কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুরন্ত বায়ু পূরবইয়াঁ বহেঅধীর আনন্দে’ গানটির মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও আবেগকে অনবদ্যভাবে তুলে ধরেন।পাশাপাশি তিনি পরিবেশন করেন কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দীন আলীরজনপ্রিয় গান ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই’ এবং মুকুল দত্তের কথায় ও হেমন্তমুখোপাধ্যায়ের সুরে লতা মঙ্গেশকরের অমর গান ‘আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন’।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রশ্ন’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন মাফরুহা আলম। এ সময় তিনিঅগ্রণী স্কুল ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যদেন।
অগ্রণীর শিল্পীবৃন্দ অমিয়া মতিন, মাফরুহা আলম ও তাহমিনা খানের সম্মিলিত কণ্ঠেপরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত ‘কোন পুরাতন প্রাণের টানে’ এবং নজরুলের কাব্যগীতি ‘আমি যারনূপুরের ছন্দ’ দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তবলায় যান্ত্রিক সহযোগিতা করেন মিঠু বর্মণ।প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে প্রখ্যাত সুরকার ও শিল্পী লাকী আখন্দের জনপ্রিয় গান ‘এই নীলমনিহার, এই স্বর্ণালী দিনে’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী ও তাঁর সহধর্মিণী গৌরীচৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে সংবর্ধনা জানানো হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানেঅংশগ্রহণকারী শিল্পীবৃন্দ এবং নান্দনিক মঞ্চসজ্জার জন্য লরেন্স ব্যারেলকেও ফুল দিয়েসম্মাননা জানানো হয়।
দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁরঅংশগ্রহণ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডেরঅভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে ধূমপান ও মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রমেরগুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, বিশেষকরে পিতা–মাতা এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা পর্ব শেষে তিনি শিল্পী অমিয়া মতিনের সঙ্গে একটি হৃদয়স্পর্শী দ্বৈত সংগীতপরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শক–শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সংগীত, স্মৃতিচারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরঅপূর্ব সমন্বয়ে আয়োজিত এই মনোজ্ঞ সন্ধ্যার সফল সমাপ্তি ঘটে।

