মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

গভীর গৃহযুদ্ধের মধ্যেই দীর্ঘ প্রতিশ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সোমবার জান্তা জানায়, আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। তবে দেশের বড় একটি অংশ এখনো সেনাশাসনের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যেখানে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

২০২১ সালে গণতান্ত্রিক নেতা অং সান সুচির সরকার উৎখাতের পর থেকেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নিমজ্জিত মিয়ানমার। সেই অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিতে এবার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে সেনাশাসক মিন অং হ্লাইং, যিনি যে কোনোভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের এক বাসিন্দা বলেন, “এই নির্বাচন শুধু সামরিক শাসকদের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য, জনগণের জন্য এর কোনো গুরুত্ব নেই।”

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছেন। স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড স্কট ম্যাথিসন বলেন, “এটি রাজনৈতিক সংকটের সমাধান নয়, বরং দমনমূলক শাসনকে নতুনভাবে সাজানোর কৌশল।”

দেশজুড়ে সংঘাত, দারিদ্র্য আর বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও জান্তা নির্বাচনকে শান্তি ফেরানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরছে। তারা অস্ত্র সমর্পণকারীদের নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। তবে বিরোধী অনেক দলই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। সুচি এখনো কারাগারে বন্দি।

গত মাসে নির্বাচনবিরোধী প্রতিবাদ ঠেকাতে নতুন আইন করেছে জান্তা, যেখানে সমালোচকদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র নাশকতা বা প্রার্থীদের ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছরের শাস্তিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জনগণনা দেখিয়েছে, ৫১ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ১৯ মিলিয়ন মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি ‘নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার’ কারণে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে নির্বাচনের আওতা কতটা সীমিত হতে যাচ্ছে।

Share.
Exit mobile version