মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পরিবেশের প্রতি নির্দয় আচরণ চলতে থাকলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ একদিন কপাল থেকে হারিয়ে যাবে।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির উপহার, কারখানার পণ্য নয়। অথচ আমরা এত নির্দয় হয়ে পড়েছি যে একদিন হয়তো মাছও থাকবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, নদীকে শাসনের নাম করে আমরা প্রতিনিয়ত তাকে নির্যাতন করছি, বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে দিচ্ছি। “পানি যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?” — প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলসম্পদের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস জানান, বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ নারীও আছেন। কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা প্রায়ই প্রতিকূলতায় পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু মাছের দাম বা টাটকাতা দেখি, কিন্তু যারা শ্রম দিয়ে মাছ আমাদের কাছে পৌঁছে দেন, তাদের কথা ভুলে যাই।”

গভীর সমুদ্রের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষা করছে। এজন্য গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস নির্বিচার মাছ ধরা ও অবৈধ জালের ব্যবহারকে “প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ঠেকানো শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও। “আগামী প্রজন্ম যেন বঞ্চিত না হয়, এজন্য সবার দায়িত্ব নিতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সকালে আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আজ আমি প্রকৃতির প্রতি সদয় হব। প্রকৃতির প্রতি সদয় না হলে ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না।”

অনুষ্ঠানে নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেনও বক্তব্য দেন।

এবারের মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য“অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি।” সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ, মাছের রক্ষণাবেক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

Share.
Exit mobile version