শুক্রবার | জুলাই ১৭ | ২০২৬

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংঘ জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আজ একসংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ন্যূনতম শতাংশ বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষায়, সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ মানবিকনিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্যঅপরিহার্য।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে স্মরণ করেন২০০৫ সালে দেশের বিশিষ্ট শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক গবেষকদের অংশগ্রহণেঅনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গোলটেবিল বৈঠকে সংস্কৃতির উন্নয়নে ১৫ দফা প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছিলএবং তখন থেকে এসব প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে বাস্তবায়নের দাবি জানানোহয়েছে। তিনি বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ প্রস্তাবনাএখনো বাস্তবায়ন হয়নি; তাই জাতীয় বাজেটে অন্তত % বরাদ্দ সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মা হাসানুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন।জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ছটকু আহমেদ বলেন, “সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ মানেভবিষ্যৎ প্রজন্মের মূল্যবোধে বিনিয়োগ; এটি জাতীয় সৌহার্দ্য সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায়সহায়ক।অভিনেতা আব্দুল আজিজ বলেন, “সংস্কৃতির অবনতি হলে সমাজের নৈতিকভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।কবি শিরিন বেগম গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানেসংস্কৃতির গুরুত্ব তার মাধ্যমে সহনশীলতা সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির কথা উল্লেখকরেন।

সংগঠনের সদস্য এবং নাট্যকর্মী ও নির্দেশক এম এ হামিদ বলেন, “একটি দেশের মূল মেরুদণ্ড হচ্ছে তারসংস্কৃতি; সঠিক পরিচর্যা ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থা সুস্থভাবে এগোতে পারে না।বাংলাদেশের শর্টফিল্মসোসাইটির চেয়ারম্যান হুসনে মোবারক বলেন, “জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে % বরাদ্দকেআমরা মানবিক নিরাপত্তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরির সঙ্গে সংযুক্ত মনে করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, নাট্যকার মতিউররহমান রানা, শিল্পী ফয়জুল আলম পাপ্পু, যাত্রা সংগঠক গাজী আব্দুর রাজ্জাক, খন্দকারআনোয়ারুল ইসলাম অন্যান্য বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তারা ২০০৫ সালের ১৫ দফাসাংস্কৃতিক প্রস্তাবনার পূনরায় বাস্তবায়ন এবং আগামী বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ন্যূনতম % বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা একযোগে উল্লেখ করেন, সংস্কৃতিতে বরাদ্দকৃত অর্থকে খরচ না দেখে দেশের মানবিকমূল্যবোধ, সামাজিক সংহতি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তায় বিনিয়োগ হিসেবে দেখাউচিত। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দাবিগুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য সময়দেবেন।

Share.
Exit mobile version