শুক্রবার | জুলাই ১৭ | ২০২৬

মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তার করা তিনটি প্রশ্ন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা অনুমোদন পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন টিকটকের কনটেন্ট নির্মাতা @berneese_। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, অধিকাংশ আবেদনকারী ভিসা সাক্ষাৎকারকে যতটা কঠিন বা ভীতিকর মনে করেন, বাস্তবে প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সেটি ততটা জটিল নয়।

ভিডিওতে তিনি জানান, সাক্ষাৎকারের শুরুতেই কনস্যুলার কর্মকর্তা তার পাসপোর্ট দেখতে চান। এরপর দ্রুতই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করেন; যুক্তরাষ্ট্রে তার সফরের উদ্দেশ্য কী। তার মতে, এই প্রশ্নের উত্তর যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই ভিসা আবেদনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আবেদনকারীদের পরামর্শ দেন, যেন তারা খুব সংক্ষিপ্ত বা এক শব্দে উত্তর না দেন, আবার অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ ও এলোমেলো কথাও না বলেন। উত্তর হওয়া উচিত স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং প্রাসঙ্গিক।

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা যখন কম্পিউটারে তথ্য টাইপ করেন, তখন অনেক আবেদনকারী নীরবে অপেক্ষা করেন। তবে তার মতে, ওই সময়টিই নিজের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর একটি ভালো সুযোগ। তিনি বলেন, কর্মকর্তা যখন টাইপ করছিলেন, তখন তিনি নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এমন সুযোগ কাজে লাগানো না হলে আবেদনকারী নিজের সম্পর্কে কেবল সীমিত তথ্যই উপস্থাপন করতে পারেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে তৃতীয় প্রশ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি কোথায় থাকবেন। তিনি সরাসরি এর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভ্রমণ-ইতিহাসও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অতীতে কোনো দেশেই তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থান করেননি। তাঁর মতে, এ তথ্যটি তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক আবেদনকারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিসা আবেদন মূল্যায়নের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর নিজ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা এবং ভ্রমণের ইতিহাস খতিয়ে দেখেন, যাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে সফল ভিসা আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ এখন অনেক আবেদনকারীর কাছেই বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

Share.
Exit mobile version