মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন আইনি অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এ শুনানি শুরু হয়। আদালত গত সপ্তাহে আবেদনকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত বিষয়টি কার্যতালিকায় যুক্ত করেছে।

রিভিউ আবেদনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান দুই বিরোধী দল এবং পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক পক্ষভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ। বিএনপি ও জামায়াত ইন্টারভেনর হিসেবে যুক্ত হয়।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ফলে বিলুপ্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। রায়ের পরই সংসদ ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস করে পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে এ অধ্যায় সম্পূর্ণ মুছে দেওয়া হয়।

তবে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নতুন রায় দিয়ে বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ওই রায়ে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা—যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক বিলোপ করা হয়েছিল—সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে এবং গণভোট-সংক্রান্ত বিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলে, সংশোধনী দুটি গণতন্ত্র, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও নাগরিক আস্থার মতো সংবিধানের মৌল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৮ জুলাই।

আজকের শুনানিতে মূলত তিনটি জিজ্ঞাসাকে কেন্দ্র করে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে।  এই তিনটি জিজ্ঞাসা হলো  ২০১১ সালের আপিল বিভাগের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা কি সঠিকভাবে প্রযোজ্য ছিল? হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ঘোষিত ২০ ও ২১ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত কি বহাল থাকবে? এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি বিকল্প কোনো মডেল কার্যকর হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিভিউ শুনানির ফলাফল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কাঠামো নির্ধারণ করবে। আদালত যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিকতা পুনর্বহাল করে, তবে জাতীয় নির্বাচন একটি নতুন প্রেক্ষাপটে দাঁড়াবে। আর যদি বিকল্প কাঠামোর পথে যায়, তবে রাজনৈতিক সমঝোতার ধরনে পরিবর্তন ঘটবে।

Share.
Exit mobile version