মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভিসাধারী প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বিদেশির তথ্য নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ভিসার শর্ত লঙ্ঘন বা যোগ্যতা হারানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের ভিসা বাতিল এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব ভিসাধারীই সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকেন। কারও বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙা, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো বা সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। আর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অবৈধ অভিবাসন দমনে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে এসব পদক্ষেপ কেবল অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বৈধভাবে অবস্থানরত অনেক ভিসাধারীও প্রশাসনের কড়াকড়ির মুখে পড়ছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার রেকর্ড, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি ভিসা অনুমোদনের পর নতুন তথ্য পাওয়া গেলেও তা পুনর্বিবেচনা করা হয়।

এর পাশাপাশি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াতেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে সব আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে। সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রাইভেসি সেটিংস বন্ধ রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, আপাতত বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য কর্মভিসা দেওয়া হবে না। তার দাবি, বিদেশি চালকেরা মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। এর আগে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা না থাকায় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ঠেকাতে ট্রাকচালকদের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিসাধারীদের ওপর নজরদারি শুরু হয়েছিল মূলত ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে। পরে সেটিকে সম্প্রসারণ করে সব ভিসাধারীর জন্য প্রযোজ্য করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিন দিন অর্জন করা কঠিন হয়ে উঠছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে সরাসরি আইন ভঙ্গের কারণে, আর সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাতিল হয়েছে আরও ২০০ থেকে ৩০০ ভিসা।

Share.
Exit mobile version