মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য তিনজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া এলাকায় আলাদা দুটি স্থানে লাশ উত্তোলনের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বেলা পৌনে একটার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরসভার গেটপাড়া কবরস্থান থেকে নিহত রমজান কাজী (১৮) ও ইমন তালুকদারের (১৮) লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন। পরে বেলা তিনটার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পারিবারিক কবরস্থান থেকে নিহত সোহেল রানা মোল্লার (৩৫) লাশ উত্তোলন করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফ দস্তগীরের উপস্থিতিতে।

এর আগে, রোববার গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রোমানা রোজী তিনজনের লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর আজ সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে লাশগুলো উত্তোলন করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, ১৬ জুলাই এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলা ও সংঘর্ষে রমজান, ইমন ও সোহেল রানা গুলিতে নিহত হন। ঘটনার পরপরই কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁদের দাফন করা হয়। এমনকি পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনও তৈরি করেনি। বিষয়টি নিয়ে তখন থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এরপর ১৯ জুলাই নিহতদের পরিবার ও দলীয় সূত্রে দায়ের করা এক হত্যা মামলার ভিত্তিতে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। আদালতের নির্দেশে আজ লাশ উত্তোলনের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে বলে জানান পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় মোট চারজন নিহত হলেও, তাদের মধ্যে একজন—দীপ্ত সাহার লাশ দাহ করা হয় বিধায় তাঁর ময়নাতদন্ত আর সম্ভব নয়। আরেকজন গত শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, তাঁর ক্ষেত্রে হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে নিহত হলেও তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলো এড়িয়ে দাফন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতদের পরিবার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতদের স্বজনরা।

Share.
Exit mobile version