মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ২৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০০ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল জালালাবাদের ২৭ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে এবং ভূগর্ভের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়ে ৬.০। ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় অন্তত দুটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হানে, যার মধ্যে একটি ছিল ৫.২ মাত্রার।

আফগান তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুনার প্রদেশের নূর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি ও চাপা দারা জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি এসব অঞ্চলের অনেক গ্রামে এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ভূমিধসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সাওকি জেলার দেওয়াহ গুল ও নূর গুল জেলার মাজার দারার সড়ক ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রশাসন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “দুঃখজনকভাবে, আজ রাতের ভূমিকম্পে কয়েকটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জীবন বাঁচাতে সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে।”

তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ মিলে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেও জরুরি সহায়তা দল দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা ভূমিকম্পটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলছেন, কয়েক সেকেন্ডের এই কম্পনে পাহাড়ি গ্রামগুলো কেঁপে ওঠে, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প প্রত্যন্ত অঞ্চলে আঘাত হানায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সঠিক পরিস্থিতি জানতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version