মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণআন্দোলন দমনে আগের রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বৈঠক ডাকেন এবং চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুসারে ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে সাবেক পুলিশ প্রধান বলেন, “আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নজরদারি, গুলি ও ভয়ভীতি সৃষ্টির পরিকল্পনা হয়। এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এই অপারেশনে যুক্ত ছিলাম না।”

তিনি বলেন, “৪ আগস্ট বেলা ১১টায় প্রথম বৈঠকে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান এবং আমি উপস্থিত ছিলাম। এরপর রাত ১০টার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, র‍্যাব ও সেনাপ্রধানসহ আমি নিজে।”

ওই বৈঠকে ৫ আগস্ট কীভাবে আন্দোলন দমন করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর সবাই মিলে সেনাবাহিনীর অপারেশন কন্ট্রোল রুমে যান।

জবানবন্দিতে বলা হয়, “৫ আগস্ট সকালে উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় জনস্রোত দেখা দিলে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু সেনাবাহিনী বাধা দেয়নি। তাদের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা আন্দোলনের পক্ষ নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিকেলে হেলিকপ্টার পুলিশের জন্য পাঠানো হয়। আমি তেজগাঁও বিমানবন্দর হয়ে সেনা মেসে আশ্রয় নিই।”

এদিনই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনে সাধারণ জনগণ নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজধানীর রাস্তাঘাট।

Share.
Exit mobile version