২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-আন্দোলন চলাকালে প্রায় প্রতিরাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক হতো।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সূত্র অনুসারে ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি বলেন, “বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত সচিব টিপু সুলতান ও রেজা মোস্তাফা, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, র্যাবের ডিজি হারুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, আনসার ডিজি মেজর জেনারেল এ কে এম আমিনুল হক, এনটিএমসির ডিজি মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং ডিজিএফআই-এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন।”
সাবেক পাুলিশ প্রধান বলেন, “আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নজরদারি, গুলি ও ভয়ভীতি সৃষ্টির পরিকল্পনা হয়। এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এই অপারেশনে যুক্ত ছিলাম না।”
এসব বৈঠকে আন্দোলন দমন, গ্রেপ্তার অভিযান এবং সমন্বয়কারীদের আটক এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মতো সিদ্ধান্ত হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের টেলিভিশনে ক্ষমা চাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হয় বলে মামুন জানান।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আটক ও নির্যাতনের সিদ্ধান্ত কোর কমিটির বৈঠক থেকেই আসে। তিনি নিজে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও, শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তা বাস্তবায়িত হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হারুন অর রশীদ ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন, যাকে তিনি “জিন” নামে ডাকতেন। সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নে হারুনকে তিনি সবচেয়ে ‘কর্মতৎপর’ মনে করতেন।


