ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি জোটের ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব অভিযোগ করেছেন, বিএনপি তার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে ইসলামপন্থীদেরও বড় সমর্থন রয়েছে। জোটের সমঝোতার অংশ হিসেবে আসনটি জমিয়তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেছে। আরেকটি অংশ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিল না, যে কারণে প্রত্যাশিত ফল আসেনি।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই আসনের আওয়ামী লীগ ঘরানার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীকে ঢাকায় নিয়ে নানা আশ্বাস দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে তার বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব কেন্দ্রে ভোটের দিন তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে চারটি আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি জমিয়তকে দেওয়া হয় এবং সেখানে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুর গাছ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। বিএনপি এর আগে এই আসনে ছয়বার জয় পেয়েছিল।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কাজ করেছে। দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করলে জমিয়তের প্রার্থীও জয়ী হতে পারতেন।
তিনি আরও জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। ওই কমিটি যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কোনো একক রাজনৈতিক দলের জোটে থাকা যাবে না, তাহলে জমিয়তও বিএনপির জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার বিষয়ে ভাববে।
