শুক্রবার | অক্টোবর ১৬ | ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জামিনে বের হওয়ার পর শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে উচ্চ আদালতের আদেশে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ফিরোজুল ইসলাম (৪৮)। এসময় কারাগারের সামনে থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তার সমর্থকরা। এসময় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মানুষ রানাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরদিন বুধবার উপজেলার নাজিরপুরে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ফিরোজুল। এসময় তিনি বলেন, “চারজনের সাক্ষীতে যদি আমার যাবজ্জীবন জেল দেয়, তাহলে এখানে কয়েক হাজার লোক আছে, এরা তো সবাই সাক্ষী দিচ্ছে, প্রতিপক্ষরা কী করেছে। বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।”

তার এই বক্তব্যকে মামলার বাদীকে দেওয়া সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ও মামলার বাদী বলেন, “জামিনে এসেই আমার মেয়ের মামলার বিচারের প্রতিশোধ হিসেবে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার করার কথা বলেছেন। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছি।”

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে আসলে নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল। পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫।

পরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপহরণের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর তিনি চাকরিচ্যুত হন। ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালতের রায়ে ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তুষ্ট ছিল, কিন্তু আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তাদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.
Exit mobile version