মোহাম্মদ মুনির হোসেন ফ্রান্স প্রতিনিধি: প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সিলেট বিভাগের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রত্যয়ে ‘প্রবাসীর অধিকার, সিলেটের উন্নয়ন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে গণদাবির বাস্তবায়ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফ্রান্সে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি নবগঠিত এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন লিগ্যাল এইড ফ্রান্সের পরিচালক আজাদ মিয়া এবং সদস্য সচিব হয়েছেন প্রবাসী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আব্দুল মোমিত (রোমেল)। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে ফ্রান্স কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ১ অক্টোবর অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মনোয়ার হুসেন (মোজাহিদ), মো. তাজ উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও তৌফিকুল ইসলাম। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বদরুল বিন আফরুজ, আনসারী মোহাম্মদ আজাদ ও জিল্লুর রহমান। নবগঠিত কমিটিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আজাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন। লিগ্যাল এইড ফ্রান্সের পরিচালক হিসেবে তিনি প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আইনি সমস্যায় পড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাঁদের সমস্যা ও ভোগান্তির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং অধিকার আদায়ের উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের সংগঠিত করা, তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সম্মিলিতভাবে দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন কমিটির কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল মোমিত (রোমেল) একজন প্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি দৈনিক মানবজমিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং এসব সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনের বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি ও বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। সাংবাদিকতার বাইরেও মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন আব্দুল মোমিত (রোমেল)। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজের নির্বাহী সদস্য এবং ভয়েস ফর জাস্টিসের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। মানবাধিকার ও প্রবাসীদের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও তাঁর কার্যক্রম রয়েছে। প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রাপ্তিতে জটিলতা দূর করা, আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তিনি সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সংগঠিতভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সিলেট বিভাগের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও ন্যায্য দাবি-দাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সিলেট বিভাগের মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরাই হবে কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সিলেটের উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সাল থেকে সংগঠনটি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, সিলেটে নতুন রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গঠন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা এবং সিলেট বিভাগ ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের আন্দোলন ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জে সারকারখানা বহাল রাখা ও নতুন শাহজালাল সারকারখানা স্থাপন, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা নিলাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন এবং সুরমা নদীর তীর রক্ষার মতো বিষয়ও সংগঠনটির প্রকাশিত অর্জনের তালিকায় রয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দাবির তালিকায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি বিমান চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারণ, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চালু, বিভাগের নদ-নদী খননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু, সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ পুনঃস্থাপন এবং শমশেরনগর বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালুর দাবিও রয়েছে সংগঠনটির তালিকায়। দাবিগুলোর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার, হাওর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠন, সিলেট বিভাগের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, চায়ের সদর দপ্তর শ্রীমঙ্গলে স্থাপন এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে সিলেট বিভাগের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরও সংগঠিত ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটির সামনে এখন ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাঁদের সমস্যা ও দাবি চিহ্নিত করা এবং সিলেটের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে। প্রবাসীদের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কমিটি প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীর অধিকার, সিলেটের উন্নয়ন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে গণদাবির বাস্তবায়ন স্লোগানকে সামনে রেখে নবগঠিত কমিটি প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সিলেট বিভাগের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা, সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক ভূমিকা রাখাই হবে ফ্রান্স কমিটির সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
