শুক্রবার | অক্টোবর ১৬ | ২০২৬

পুষ্টির চাহিদা পূরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল মাঠপর্যায়ের কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়নি। বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।

প্রকল্পের কেনাকাটা ও বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় না রেখে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং এর বিনিময়ে কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্য ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের কাজ দেওয়ার কারণে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় অনিয়মিত শ্রমিক ও দৈনিকভিত্তিক মজুরি খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দের পরও ভুয়া বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্রে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের নাম ও কাজের বিবরণ দেখানো হলেও বাস্তবে তারা কাজ করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাল্পনিক শ্রমিকের নামে অর্থ উত্তোলনের ফলে প্রকৃত শ্রমিকরাও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রকল্পের নথিপত্রে বিপুলসংখ্যক কৃষককে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের তথ্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণের নামে নামমাত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে বরাদ্দের বড় অংশ ব্যয় দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের উপকরণ এবং মানসম্মত মাশরুম স্পন সরবরাহ না করায় অনেক খামার চাষ শুরুর কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও কারিগরি সহায়তার ঘাটতিকেও প্রকল্পের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পরিবর্তে সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মূল সুবিধাভোগীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রকল্পটির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কৃষিবিদ মনির হোসেন বলেন, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পটি দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছিল। প্রকল্পটি এখন শেষ পর্যায়ে থাকলে এর অর্জন ও ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোছা. আখতার জাহান কাঁকনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের ঠিকাদারি, কেনাকাটা, শ্রমিকের মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা উপকরণের হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Share.
Exit mobile version