মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই এ খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে এই বাজেটেই বরাদ্দ দিতে হবে। ডিসেম্বরের বাজেট সংশোধনের সময় এটি যুক্ত করা হবে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত ২৪ জুলাই একটি পে কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়া হবে। কমিশনের এক সদস্য বলেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে অনুপাত ১০:১, নতুন কাঠামোতেও এটি ৮:১ থেকে ১০:১-এর মধ্যে থাকবে।

কমিশন চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে একজন কর্মচারী মাসে ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এ ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরোত্তর সময়ের জন্যও বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও বাড়ানো হবে।

২০১৫ সালের ড. ফরাসউদ্দিন কমিশনের মতো এবারও সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল করে পদোন্নতি সহজ করার প্রস্তাব আসতে পারে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন পান। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বিদ্যুৎ কোম্পানি, সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের আলাদা কাঠামো আছে। এগুলো জাতীয় কাঠামোর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

নতুন কাঠামো বেসরকারি খাতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে। এজন্য আগামী অক্টোবর মাসে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় হবে। ইতিমধ্যে ৪৫টি খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশন সুপারিশ করবে, এসব মজুরি সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য নতুন কাঠামোয় বিশেষ প্রণোদনা ভাতা রাখার প্রস্তাব আসছে। কমিশনের মতে, এসব খাতে তরুণদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় উদ্ভাবন ব্যাহত হচ্ছে। মেধাবীদের আকৃষ্ট করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনী, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যুক্ত করলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভাতা সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

Share.
Exit mobile version