মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ৯৬ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ মিলিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ৩৬ মিলিয়ন ডলার দেবে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে এই ঘোষণা আসে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক সম্মেলনের সূচনায় বলেন, মিয়ানমারের সংকট পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি জানান, ৫০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু একই অভিজ্ঞতা বহন করছে। শুধু বাংলাদেশের কক্সবাজারেই ৮ লাখ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে আছে।

বেয়ারবক আরও জানান, ২০২৫ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা এখনো মাত্র ১২ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে, যা সবার জন্য লজ্জাজনক। তিনি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিমরা নাগরিকত্ব হারিয়েছে, ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হয়েছে এবং আশ্রয়শিবিরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, আর মিয়ানমারের ভেতরে আরও অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সম্মেলনে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। তারা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক নিয়োগ, যৌন সহিংসতা, বিমান হামলা ও গণবাস্তুচ্যুতির ঘটনা তুলে ধরেন। মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, সহায়তার তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। শরণার্থীরা অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকেই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় ঝুঁকছে।

মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, রাখাইন রাজ্যের অবস্থা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতে সাধারণ মানুষ চরম বিপর্যয়ে আছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সংকট লাখ লাখ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা পদদলিত করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।

বিবৃতিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়—বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা, মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের ওপর চাপ কমাতে বিনিয়োগ। একইসঙ্গে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে। রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

সম্মেলনে রোহিঙ্গা কর্মীরা বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাদের মতে, বিচারই একমাত্র প্রতিরোধ, একমাত্র শান্তির পথ।

Share.
Exit mobile version