বুধবার | মার্চ ৪ | ২০২৬

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ আবারও শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাতে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। প্রায় দুই দশক (দীর্ঘ ১৯ বছর) পর অনুষ্ঠানটি শুরুর  খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই দর্শকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে; কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, কেউ আবার স্মৃতিময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছেন।

১৯৭৬ সালে বিটিভিতে মোস্তফা মনোয়ারের প্রযোজনায় যাত্রা শুরু করা নতুন কুঁড়ি গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্ত থেকে উদীয়মান প্রতিভা খুঁজে বের করেছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই অনুষ্ঠান থেকে উঠে এসেছে অসংখ্য শিল্পী, যারা পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিনোদন, নাট্যাঙ্গন ও সঙ্গীতজগতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।

অভিনেত্রী তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাকিয়া বারী মম, তমালিকা কর্মকার, সাবরিন সাকা মীম, আজাদ রহমান শাকিল, গায়িকা সামিনা চৌধুরী, হেমন্তী রক্ষিত দাস ও মহবুবা মাহনুর চাঁদনীসহ আরও অনেকে নতুন কুঁড়ির মঞ্চে প্রথম পরিচিতি পান। অনেকের কাছে এই প্রতিযোগিতা ছিল শিল্পীজীবনের প্রথম ধাপ।

১৯৬৬ সালে প্রথমবার পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রচারিত নতুন কুঁড়ি স্বাধীনতার পর বিটিভিতে পুনরায় চালু হয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়। তবে ২০০৬ সালে আর্থিক সংকট, বেসরকারি চ্যানেলের প্রসার এবং গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

যদিও এবারের পুনরাগমনের জন্য অডিশন প্রক্রিয়া, সম্প্রচার সূচি কিংবা ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি বিটিভি। তবে দর্শক, সংস্কৃতিমনা মানুষ ও সাবেক প্রতিযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, যা নতুন কুঁড়ির প্রতি দীর্ঘদিনের ভালবাসা ও আগ্রহের প্রমাণ।

দীর্ঘ বিরতির পরও নতুন কুঁড়ি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে আছে। এর পুনরাগমন নতুন প্রজন্মের প্রতিভা আবিষ্কার ও লালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

Share.
Exit mobile version