শুক্রবার | অক্টোবর ১৬ | ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধা নিয়ে দুটি লাভজনক প্রকল্পের পিডি পদ বাগিয়ে নেওয়া এবং মাঠ পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিসিএস কৃষি ক্যাডারের ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রজেক্ট’ এই দুটি বড় বাজেটের প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এবং কোনো এপিডি বা ডিপিডি পদে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থেকে এই দুটি প্রকল্পের দায়িত্ব নেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন কর্মকর্তার একটি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তিনি একসাথে দুটি প্রকল্প পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে, গত জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারাদেশে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি খামারবাড়িতে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি পদ ধরে রাখতে তৎপর রয়েছেন বলে অধিদপ্তরের একটি সূত্র দাবি করেছে।

মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বান্দরবানের ফারুক পাড়া এলাকার কৃষক লাল জার থাং বমের অভিযোগ, টিস্যু কালচার প্রকল্প থেকে দেওয়া আমের চারাগুলো ছিল রোগাক্রান্ত এবং রোপণের আগেই মারা যায়।

অনুসন্ধানে ডলুপাড়া (চেমী) ব্লকে আরও অনিয়মের অভিযোগ মেলে। সেখানে ‘বাণিজ্যিক মিশ্র ফল বাগান’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে ফলের চারার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। সাইনবোর্ড সর্বস্ব প্রদর্শনী দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তারা।

হতদরিদ্র কৃষক নুমেচিং মারমা বলেন, তার পতিত জমি থাকলেও তিনি কোনো প্রদর্শনী পাননি। বয়ঙির বম নামে আরেক ব্যক্তির দাবি, তার নামে জায়ান্ট কিউ জাতের বাণিজ্যিক আনারস বাগান বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি তা জানতেনই না। এছাড়া দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপকারভোগী দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, ওইখানকার উপ-পরিচালক জানেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version