জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান দ্বিতীয় দফার সংলাপে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুলিশ কমিশন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রস্তাব। রবিবার (২৭ জুলাই) সংলাপের ১৯তম দিনে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে এই আলোচনা শুরু হয় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে।
এই পর্বে আলোচিত অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালার পর্যালোচনা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার প্রসার। অংশগ্রহণকারী প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ সংস্কার প্রস্তাব ও অবস্থান উপস্থাপন করে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম দফার ১৬৬টি সংস্কার ইস্যুর মধ্যে ছিল না। তবে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এটি দ্বিতীয় দফায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য, সংলাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচ্য ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের ওপর আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান চূড়ান্ত করা।
এর আগে প্রথম দফার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু হয় ২ জুন, যার উদ্বোধন করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ইস্যুতে একটি সমন্বিত জাতীয় অবস্থান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে একটি নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।


