বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রবিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা সংলাপের ১৯তম দিনের শুরুতে এ তথ্য জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
তিনি জানান, খসড়া সনদটি আগামীকালের (২৮ জুলাই) মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে খসড়াটি পর্যালোচনা করে মতামত দিলে তা চূড়ান্ত সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বড় ধরনের মৌলিক আপত্তি না থাকলে খসড়া নিয়ে আর আলোচনা হবে না বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, “আমাদের আলোচনার সময় সীমিত। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই সংলাপ শেষ করে পরবর্তী ধাপে যেতে চাই।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১৮টি আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ১০টি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের ঐকমত্য হয়েছে, যদিও কিছু ইস্যুতে ভিন্নমত (‘নোট অব ডিসেন্ট’) রয়েছে। সাতটি বিষয়ে আলোচনা অসমাপ্ত এবং তিনটি বিষয়ের ওপর এখনো আলোচনা হয়নি।
আজকের বৈঠকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে পুলিশ কমিশনের প্রস্তাবটি একেবারেই নতুন, যা প্রথম দফার ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাবে ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে।
আজকের বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল।
সংলাপে কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচারিক সংস্কার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবাধিকার নিশ্চিতসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও অমীমাংসিত বিষয়ে ঐকমত্য গড়তেই এই সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত জাতীয় অবস্থান গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত প্রথম দফার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফা শুরু হয় ২ জুন।
কমিশন আশাবাদী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জুলাই সনদের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।


