মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছিল গত ২৯ আগস্ট, শেষ হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীরা দিনরাত চেষ্টা করেছেন ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে।

জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ১১,৭৮৩ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে ১৭৮ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। হল সংসদে ২১টি হলের ৩১৫টি পদে ৪৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন্দ্রীয় সংসদে আটটি প্যানেলের মাধ্যমে ১৩১ জন এবং ৪৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া হল সংসদের ৬৪টি পদে কোনো প্রার্থী নেই এবং ১২৪টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পাঁচ সদস্যের কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। অন্যান্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক মাফরুহী ছাত্তার, অধ্যাপক খো. লুত্ফুল এলাহী ও রেজওয়ানা কবির স্নিগ্ধা।

নির্বাচনে মোট আটটি প্যানেল লড়াই করছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চারটি প্যানেল হল শিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, বাগছাস সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল এবং ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’। আংশিক প্যানেলগুলি হলো জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট সমর্থিত ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’, ‘স্বতন্ত্র ঐক্য সম্মিলন’, ছাত্র ইউনিয়ন (অন্য অংশ) সমর্থিত ‘সংসপ্তক’ এবং ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত প্যানেল।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের দাবিতে সব প্রার্থীর বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট নেওয়া হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৬৩ জন এবং হল সংসদের ৪০৩ জন প্রার্থী ডোপ টেস্টের নমুনা দিয়েছেন। যাদের পরীক্ষা করানো হয়নি বা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, তাদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখার জন্য প্রায় ১,২০০ জন পুলিশ ও আনসার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরাও মাঠে আছেন। ১২টি গেট বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে বহিরাগত প্রবেশ না করতে পারে। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কার্ড বাধ্যতামূলক। মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকরা বিশেষ আইডি প্রদানের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে র্যাব ও সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

ভোট গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলকে কেন্দ্র করে মোট ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। পোলিং ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের ফলাফল মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। একজন ভোটার কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪০টি ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনের দুই দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থিতা আদালতের রায়ে পুনর্বহাল হয়। তবে চেম্বার জজের আদালতে আপিলের কারণে প্রার্থিতা স্থগিত থাকে। এরপর মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন সদস্যদের অবরুদ্ধ রাখা হয়।

Share.
Exit mobile version