মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বুধবার পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে পাহারা দিয়েছে সেনাবাহিনী। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ রয়েছে। দুই দিনব্যাপী অ্যান্টি-করাপশন বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কে পি) শর্মা অলি মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে বুধবার পর্যন্ত মোট ২৫ জন নিহত এবং ৬৩৩ জন আহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে সরকার ঘোষিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা শুরুতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। তবে সোমবার পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটের ব্যবহারে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তরুণরা, যারা সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবের জন্য হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। এই কারণে বিক্ষোভকে “জেন-জেড বিক্ষোভ” বলা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশিলা কারকিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। কারকিও এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন পার্লামেন্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, বিভিন্ন মন্ত্রীর বাসভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। শহরের সড়কগুলোতে সেনাবাহিনী এবং বর্মধারী যানবাহন পাহারা দিচ্ছে। দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, “আমরা প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি জানান, দিল্লি বাজারের কারাগারেও আগুন লাগে, যা সেনা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

কাঠমান্ডুর প্রধান বিমানবন্দরও বুধবার পুনরায় খোলা হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কারফিউ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিক্ষোভ, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আক্রমণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিক্ষোভে আহত ২০ বছর বয়সী সুমন রাই বলেছেন, “আমাদের ভবিষ্যতের জন্য রক্তপাত প্রয়োজন হলে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমার কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত।”

ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপাল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সমস্যায় ভুগছে। দেশটির শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র বলেন, “তরুণদের যৌক্তিক দাবির কথা না ভেবে মানুষ হত্যা ও আহত করা নিন্দনীয়। এটি শান্তিপ্রিয় নেপালি সমাজের নীতির বিরোধী।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের নাগরিকদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনও আশা প্রকাশ করেছে, সামাজিক ও জাতীয় স্থিতিশীলতা দ্রুত পুনঃস্থাপিত হবে।

.
তথ্যসূত্র : রয়টার্স

Share.
Exit mobile version