রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৪ জন। হতাহতদের বেশিরভাগই শিশু বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-সেভেন বিজেআই ফাইটার এয়ারক্র্যাফট দুপুর ১টার দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে ক্র্যাশ ল্যান্ড করে। প্রথম তলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলছিল, দ্বিতীয় তলায় ছিল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস, সাথে প্রিন্সিপালের অফিস ও একটি কোচিং ক্লাসও চলছিল। ঠিক সেই সময় ক্লাস শেষে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক শিক্ষক কক্ষে অপেক্ষা করছিল।”
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
জানানো হয়, নিহতদের মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু এবং কারো পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন,
“আমরা যত দ্রুত সম্ভব পরিচয় নিশ্চিত করে পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান জানাব।”
এই দূর্ঘটনায় বিমানটির চালক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
এ দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে।
শোক দিবসে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতেও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য।
এছাড়াও দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহত ও আহতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থলে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে, উদ্ধারকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহায়তা করছেন। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগছে।


