চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে বেড়ে গেছে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ। সম্প্রতি চিকুনগুনিয়া ও সাধারণ ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তে NS1 অ্যান্টিজেন, IgM অ্যান্টিবডি ও IgG অ্যান্টিবডি পরীক্ষার চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
চিকিৎসকদের পরামর্শে অনেকেই CBC টেস্ট করিয়ে রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখা যাচ্ছে এ কারণে দীর্ঘ লাইন ও ভিড়।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। পরিবারের এক সদস্য সেরে উঠলে অন্যজন আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি ও তীব্র শরীর ব্যথাও দেখা দিচ্ছে। ফলে প্যারাসিটামল সেবনে আরাম না পেয়ে অনেকেই সাপোজিটরি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হালিশহর রোডের জনতা ফার্মেসির বিক্রয় কর্মকর্তা মামুন সংবাদপ্রবাহকে জানান,
“গত কয়েক বছরের মধ্যে এত বেশি প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ বিক্রি হতে দেখিনি। বিশেষ করে ১০০০ এমজি প্যারাসিটামলের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। ক্রেতারা বলছেন, বাড়ির প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদ মীরজাদা জানান,
“বর্তমানে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও সাধারণ ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ হঠাৎ করে বেড়েছে। আগে এই ধরনের ভাইরাস জ্বর শহরেই সীমিত ছিল, এখন তা গ্রামেগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“ভাইরাস জ্বরে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। এ সময় বিশ্রাম এবং তরল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন,
“চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে সাধারণ ভাইরাস জ্বর কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে জ্বরের প্রকৃতি ও রোগীর অবস্থার ভিত্তিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।”
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় ৬১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৩৪ জনই বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভাইরাস জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর কেবল শহরে সীমিত নেই, গ্রামেগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের মত, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।


