মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরায় বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের মৃত্যুতে রাজশাহীর উপশহরে তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির আকাশ-বাতাস।

সোমবার দুপুরে রাজশাহীর উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরে সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা তোহরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন ও ছোট বোন বৃষ্টিকে নিয়ে স্বজনরা অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ আগেই বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তারা ঢাকায় রওনা হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় জমিয়েছে প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সাগরের মেজ চাচা মতিউর রহমান জানান, “বিকেল নাগাদ আমরা সাগরের মৃত্যুর খবর পাই। বিমানবাহিনী থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, একটি হেলিকপ্টারে করে সাগরের বাবা-মা ও বোনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তারা মরদেহ শনাক্ত ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাজশাহী ফিরবেন।”

তিনি আরও বলেন, “সাগর মাত্র ছয় মাস আগে বিয়ে করেছে। খুব শান্ত, মেধাবী আর দায়িত্বশীল ছেলে ছিল। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। এখন শুধু তার মরদেহ ফেরার অপেক্ষা।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। কিছুক্ষণ পরেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাইলট তৌকির ইসলাম প্রাণ হারান এবং অন্তত ১৯ জন নিহত ও ১৬০ জনের বেশি আহত হন।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

তৌকিরের আত্মত্যাগে শুধু রাজশাহীতেই নয়, গোটা দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোক। তরুণ এই পাইলটকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন আজ নিস্তব্ধ।

Share.
Exit mobile version