আজ ১২ রবিউল আউয়াল, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যস্মৃতিময় দিন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দান-খয়রাত এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করছেন। অনেকে নফল রোজাও পালন করছেন।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল হিসেবে তাওহিদের মহান বাণী প্রচার করেন এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর অনুপম চরিত্র, সহিষ্ণুতা, দয়া ও মানবিক গুণাবলি সব যুগের মানুষের কাছে শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক বাণীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। তিনি দিনটিকে মুসলমানদের জন্য সর্বাধিক পবিত্র ও মহিমান্বিত উল্লেখ করে দেশবাসী ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার উদ্বোধন করেন এ কর্মসূচি। এতে ওয়াজ, মিলাদ, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, ক্বিরাত প্রতিযোগিতা, ইসলামি বইমেলা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন থাকছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সরকার সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বড় মসজিদ ও ধর্মীয় স্থানে বিশেষ নজরদারি এবং রাজধানীসহ বড় শহরে শোভাযাত্রা ও জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামীকাল শনিবার রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীতে শোভাযাত্রা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
