মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে গত অর্থবছরের তুলনায় স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং কর্মচাঞ্চল্যও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় শ্বেতপত্র কমিটির সদস্য ড. জাহিদ হোসেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে ‘ম্যাক্রোইকোনমিক চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা এসেছে, তার একটি বড় কারণ হলো যারা অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী ছিলেন তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। এর ফলে অর্থপাচার বন্ধ হয়েছে, হুন্ডি কমে গেছে এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে লুটপাট বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ডলারের দর কমে যাওয়া ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কভার ভারতের ও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০৫ কোটি ডলারের বেশি বাড়ার সুযোগ রয়েছে। ভারতের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্কারোপের কারণে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইভাবে, চীনের ওপর বাড়তি শুল্কারোপের কারণে সাত থেকে পঁচিশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে আশাবাদের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের দিকও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে আটকে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা, লজিস্টিক অবকাঠামোর দুর্বলতা, শ্রমবাজারে উন্নতির অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় আমাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গে ড. জাহিদ বলেন, “শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই সংস্কার সফল হবে না। সংস্কারের জন্য দরকার কার্যকর রিফর্ম ডেলিভারি ক্যাপাসিটি। এজন্য উপদেষ্টা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজ—এই চার পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।”

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

Share.
Exit mobile version