রাজধানীর কাকরাইলে যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নুরুল হকের মাথায় আঘাত এবং নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার কারণে শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। বর্তমানে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং তিনি সচেতন। তিনি জানান, “৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত বলাটা সম্ভব নয়।”
নুরুল হকের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গতকাল শুক্রবার রাতেই গঠন করা হয়েছে। নুরের ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জানানো হয়েছে, তিনি এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে হুঁশ ফিরেছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের পাঁচজন চিকিৎসাধীন আছেন।
পূর্বসূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে নুর ও তার দলের নেতাকর্মীরা যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন। গণঅধিকার পরিষদের অভিযোগ, তাদের মিছিলের পেছন থেকে হামলা চালায় জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি পাল্টা অভিযোগ করে, তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে ওই মিছিল থেকে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, মিছিলে হামলা চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নাকে গুরুতর আঘাতের কারণে তার চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে, রাতে নুরকে দেখতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান ও নেতাকর্মীদের ক্ষোভের কারণে তিনি হাসপাতাল থেকে আংশিকভাবে লুকিয়ে বের হতে বাধ্য হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর উপদেষ্টা নিরাপদে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।
নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিন্দা জানিয়েছে। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখা যায়। শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা করেছে গণঅধিকার পরিষদ।
সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতের ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছে, রাত ৮টায় কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে, সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। বিক্ষিপ্ত সহিংসতার কারণে জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য আহত হন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।”
বর্তমানে নুরুল হকের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহতদের সুস্থতার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


