মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

গাজায় নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫জন নিহত হয়েছেন।  সোমবার দুই দফা হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চার সাংবাদিক, যাদের একজন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম হামলায় রয়টার্স কন্ট্রাক্টর ও ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি নিহত হন। এরপর দ্বিতীয় দফা হামলায় আহত হন ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ, যিনি রয়টার্সের হয়েও কাজ করতেন।

সাক্ষীরা জানান, দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে যখন উদ্ধারকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ প্রথম বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রয়টার্সের লাইভ ভিডিও ফিড, যা হুসাম আল-মাসরি পরিচালনা করছিলেন, প্রথম হামলার মুহূর্তেই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

এক বিবৃতিতে রয়টার্স বলেছে, “গাজায় নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় আমাদের কন্ট্রাক্টর হুসাম আল-মাসরির মৃত্যু এবং হাতেম খালেদের আহত হওয়ার খবর শুনে আমরা মর্মাহত। আমরা দ্রুত আরও তথ্য সংগ্রহ করছি এবং গাজা ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে হাতেমের জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছি।”

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিহত অন্য তিন সাংবাদিকের নাম প্রকাশ করেছেন— মারিয়াম আবু দাগ্গা (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফ্রিল্যান্স), মোহাম্মদ সালামা (আল জাজিরা), এবং মুআজ আবু তাহা। এছাড়া নিহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও ছিলেন।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি “স্বাধীন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ, যার উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের ভয় দেখানো এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব বিশ্ববাসীর সামনে ইসরায়েলি অপরাধ উন্মোচন করা, তা থেকে বিরত রাখা।”

ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

Share.
Exit mobile version