ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা থেকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীরা ২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এ সময় কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে নির্বাচনী আচরণবিধি। প্রচারণাকালে কোনো সামাজিক, আর্থিক বা সেবামূলক কার্যক্রম চালানো যাবে না। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার বা মাজলিশ-মাহফিল আয়োজনও নিষিদ্ধ থাকবে। এসব কার্যক্রমকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং ধারা–১৭ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রার্থীরা মূলত চারটি উপায়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন প্রচার, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টানানো এবং হলে বা একাডেমিক ভবনের সামনে সরাসরি প্রচারণা।
এদিকে প্রার্থী তালিকা থেকে দু’জনের প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২৪ আগস্ট) মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে গঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুলিয়াস সিজার তালুকদার এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বোস্তামী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ধারাবাহিকতা দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে যায়। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে, প্রায় ২৮ বছর পর। সেই নির্বাচনে ভোট অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ বর্জন করেছিল। নির্বাচনের ফলাফলেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য দৃশ্যমান ছিল।
এর আগে ১৯৯০-এর দশকে ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হলেও ১৯৯০–এর পরবর্তী সময় থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক অনীহা এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বের কারণে এই নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ডাকসু কার্যত অচল হয়ে পড়ে।


