মঙ্গলবার | জুলাই ২১ | ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে চাঞ্চল্যকর বিএনপি সভাপতি হত্যা মামলায় এবার নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিল ছাত্রদল। হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম এই বহিষ্কারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া হেলাল নামে এক যুবকের জবানবন্দিতে মোকাররম হোসেনের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া অন্য তিন আসামি ঘটনার আগে তিন দিন ধরে মোকাররমের স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

রাফিউল ইসলাম বলেন, এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও মোকাররম হোসেন সংগঠনের কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

এর আগে রবিবার রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোকাররম হোসেনকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম (৫২)। ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে স্থানীয় জনতা। তাদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছাত্রদল নেতা মোকাররমের নাম বলেছে।

মামলা ও গ্রেফতার:

পুলিশ ওই রাতেই হেলালকে গ্রেফতার দেখায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে আরও দুজন ভাড়াটে খুনি মহিন উদ্দিন (৩২) ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার নিহত জাহিদুল আলমের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকারীদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন মিঠামইনের ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের জাকির হোসেন (৪০) ও কাজীপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ (৬৭)। তাদের বিরুদ্ধে খুনিদের স্পিডবোটে করে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে।

৫ দিনের রিমান্ডে ৫ আসামি:

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক সঙ্গীতা ভট্টাচার্য্য শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মিঠামইন জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Share.
Exit mobile version