মঙ্গলবার | জুলাই ২১ | ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে বৃক্ষরোপণের জন্য এলাকায় পরিচিত লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়েরের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের টাকায় বিভিন্ন সড়ক ও সরকারি খোলা জায়গায় গাছ লাগিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা তার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বনের গাছ কেটে ধান চাষের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়। এই মামলায় লুৎফর রহমানের সঙ্গে তার কলেজে পড়া দুই ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।

দক্ষিণ শাহবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নম্বর দাগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মামলার এজাহারে যে জায়গায় গাছ কেটে ধান লাগানোর কথা বলা হয়েছে সেখানে এখন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রামবাসী বলছেন তিন দশকের বেশি সময় ধরে জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং সেখানে বন বিভাগের কোনো গাছ ছিল না। দুই বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বিশটি আমগাছের চারা ওই মাঠের চারপাশে লাগিয়েছিলেন লুৎফর রহমান। সেই গাছের ছায়ায় বসেই এখন দর্শকরা খেলা দেখেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান পেশায় একজন ট্রাকচালক। অবসর সময়ে তিনি নিজের উপার্জনের টাকায় গত দশ বছরে পাঁচ হাজারের বেশি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

লুৎফর রহমান জানান ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কৃষি অফিস থেকে পাওয়া আমের চারা তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ফুটবল মাঠের পাশে রোপণ করেন। এর তিন মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান তাকে অফিসে ডেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বদলি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে বিশ শতাংশ জমিতে গাছ কেটে ধান লাগানোর অভিযোগে মামলা দেন। তার দাবি অভিযোগে উল্লেখিত জায়গাটি আশপাশের জমির চেয়ে প্রায় তিন ফুট উঁচু হওয়ায় সেখানে ধান চাষ করা সম্ভব নয়। তিনি সরকারি জায়গায় সরকারি গাছ লাগিয়েও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের রেফারি বকুল হোসেন বলেন বাপ দাদার আমল থেকেই এখানে খেলা হয়ে আসছে, এখানে বন বিভাগের কোনো গাছ ছিল না। লুৎফর রহমানই মাঠের ধারে আমগাছগুলো লাগিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন লুৎফর রহমান গাছ কাটতে পারেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তিনি সবসময় গাছ রক্ষায় কাজ করেন।

এ বিষয়ে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা বলেন ফুটবল মাঠের পাশে গাছ লাগানোর আগে লুৎফর রহমান তার পরামর্শ নিয়েছিলেন, পরে তিনি জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়াগপুর বিটের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান বলেন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন তাই আদালতেই কথা হবে, এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন। বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন তিনি চার মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছেন, আগের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হবে।

Share.
Exit mobile version