গত দুই বছরে দেশে কারাগারে ২২৭ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশই হৃদরোগ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন।
একই সঙ্গে মাদকাসক্ত বন্দিদের প্রত্যাহারজনিত জটিলতা, মানসিক চাপ এবং চিকিৎসক সংকটকেও মৃত্যুর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, অধিকাংশ মৃত্যুই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে। মাদকসেবী বন্দিরা এখানে মাদক না পাওয়ার একটা বিষয় আছে। আর অনেকেই এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় ডিপ্রেশনে বা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েন। তাছাড়া চিকিৎসক সংকটও বড় সমস্যা।
মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, গেল দুই বছরে মারা যাওয়া ২২৭ জনের মধ্যে ৪০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) কোনো দলীয় পরিচয় না দিয়ে বলেছে, প্রায় একই সময়ে কারাবন্দি ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ দলীয় পরিচয় না দিয়ে বলেছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টির ব্যাপারে আমরা আশা করেছিলাম ৫ আগস্টের পর কমে আসবে, আমরা পরিত্রাণ পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এটা কমছে না এবং কমানোর ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

