মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা সবসময় থাকে, কিন্তু সুযোগ হয় না। পূজার সময়ে অন্তত একবার সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ হয়।” তিনি এবারের পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।

হিন্দু ধর্মীয় নেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর দেশে এক হাজারের বেশি নতুন পূজা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। তাঁরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, বিশেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলছে। এজন্য ধর্ম উপদেষ্টা ও সচিবকে ধন্যবাদ জানান তারা।

ঢাকা মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব স্থায়ী দুর্গামন্দিরের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। গত বছরের মতো এবারও দু’দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা হয়েছে, যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।”

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বৈঠকে বলেন, “ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে আপনি গত বছর বলেছিলেন, পূজা নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় হবে—এমন দেশ আমরা চাই না। এ ধরনের বক্তব্য আমরা প্রথমবার কোনো সরকারপ্রধানের কাছ থেকে শুনেছি। আপনার বার্তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।”

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে বলেন, “আপনার দায়িত্বকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। আমরা আশা করি, আপনার নেতৃত্বে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।”

বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে এবং কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অসচ্ছল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে। সুনামগঞ্জে মন্দির নির্মাণ, পুরনো মন্দিরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিধবা নারীদের জন্য সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টা সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, সচিব দেবেন্দ্র নাথ উঁরাওসহ বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন ও পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Exit mobile version