সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

‘জুলাই গণহত্যা’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। এর মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংগঠিত সেই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

রোববার দুপুর ১২টার কিছু পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম এই অভিযোগ দাখিল করেন। পুরো শুনানি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আরও দুই জনকে আসামি করা হয়েছে—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তখনকার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনাকে ‘জুলাই-আগস্ট গণহত্যার প্রধান নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাথমিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রসিকিউশন হিসেবে আজ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিসেম্বরের মধ্যে এই মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। বিচার এমনভাবে করা হবে যাতে কারও পক্ষেই এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে।”

তিনি শেখ হাসিনাকে ‘গুম ও আয়নাঘরের নিউক্লিয়াস’ বলেও আখ্যা দেন। বলেন, “বিচার পুরো দমে এগোচ্ছে, তবে তদন্ত শেষ করতে যুক্তিসংগত সময় প্রয়োজন।”

প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সারা দেশে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক নম্বর অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশন বলছে, এ মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন—তিনজনই গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হলো।

Share.
Exit mobile version