মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা থেকে একক নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভ্যুত্থানে শিবিরের নেতৃত্বের দাবি এবং সেই প্রেক্ষিতে সাদিক কায়েমের বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “শিবির নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি এক টকশোতে দাবি করেছেন যে, ছাত্রশক্তির গঠনপ্রক্রিয়ায় শিবির ছিল এবং তাদের নির্দেশেই আমরা কাজ করতাম। এটি মিথ্যাচার। সাদিক কায়েম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। কিন্তু অভ্যুত্থানের সময় তাকে প্রচারমূলক কারণে ব্রিফিংয়ে বসতে দেওয়া হয়েছিল।”

“অভ্যুত্থান কোনো পক্ষের একক ছিল না”

নাহিদ আরও লিখেছেন, “এই অভ্যুত্থানে শিবিরের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করেনি। তবে এটিকে ঢাবি শিবিরের একক অভ্যুত্থান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেই সিদ্ধান্ত নিতাম। শিবিরের কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশ বা নেতৃত্ব এতে ছিল না।”

তিনি দাবি করেন, ছাত্রশক্তি গঠনে ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র, ঢাবির ছাত্র অধিকার আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসা একটি অংশ এবং জাহাঙ্গীরনগরের একটি স্টাডি সার্কেল যুক্ত ছিল।

“আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি, সব সংগঠন ও নেতৃত্বকে চিনতাম, এবং তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এটি কোনো পক্ষীয় অধীনতা বা নির্দেশনা অনুসরণ নয়,” বলেন নাহিদ।

শিবিরের পরিচয় ও অভ্যুত্থানে উপস্থিতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারেনি সংগঠনটি, তবে সরকারের পতনের পর বিভিন্নভাবে তাদের সক্রিয়তার প্রমাণ উঠে আসে।

ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক কায়েম পরে ফেসবুকে নিজেকে শিবিরের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও আন্দোলনের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখেই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি একটি টিভি টকশোতে সাদিক কায়েম বলেন, “২০১৭ সাল থেকে যার যার পদ যা ছিল, সবাই জানতেন। সুতরাং পরিচয় গোপনের কিছু ছিল না। সে সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আমরা ঘোষণা দিয়ে কাজ করতে পারিনি।”

চব্বিশের জুলাই ঢাবি ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং এরপর শিবিরের গোপন সংগঠনের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে। ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে নেতৃত্ব, অংশগ্রহণ ও কৃতিত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে।

Share.
Exit mobile version