মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৬ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

চলতি বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নামলো। যদিও পূর্ববর্তী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি এই সীমার আশপাশে ছিল, ধারাবাহিকভাবে এটি নিচের দিকেই গড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মে মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১৭ শতাংশ, এপ্রিল মাসে ৭.৫০ শতাংশ, মার্চে ৭.৫৭ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ৬.৮২ শতাংশ, জানুয়ারিতে ৭.১৫ শতাংশ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল ৭.২৮ শতাংশ।

ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি: কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম)-এর নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফা কে মুজেরি এই পতনের জন্য একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন।

সংবাদ সংস্থা ইউএনবিকে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি বিনিয়োগকারীদের নতুন প্রকল্পে আগ্রহ হারাতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বল অবস্থাও এর জন্য দায়ী।”

তিনি আরও জানান, “বিগত বছরগুলোতে আর্থিক অনিয়মের কারণে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। অনাদায়ী ঋণের (এনপিএল) উচ্চ হার তাদের ঋণ বিতরণে আরও সতর্ক করে তুলেছে।”

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক হ্রাস দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক গুরুতর সংকেত।”

তিনি মনে করেন, এই প্রবণতা ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসায়িক পরিবেশ—দু’টোর জন্যই উদ্বেগজনক।

প্রভাব পড়ছে শিল্প, কর্মসংস্থানেও
ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ফলে নতুন শিল্প স্থাপনের হার হ্রাস পেয়েছে, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণও মন্থর হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগেও।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সংশয়
অর্থনীতিবিদদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির নাটকীয় উন্নতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর যদি কোনো কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হয়, তবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়াও দেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন।

সংক্ষিপ্তভাবে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি বর্তমান অর্থনীতির আস্থা সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশে দুর্বলতারই প্রতিফলন।

Share.
Exit mobile version